শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হাদিকে গুলি করা দুর্বৃত্ত গোয়েন্দাদের হাতে তৃতীয় বারের মতো পেছাল খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রা যা বললেন জাহেদ উর রহমান নির্বাচনের আগে দেশে ফিরবেন না তারেক রহমান ভালোবেসে বিয়ে অত:পর চীর বিদায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা দিলেন বিচারক গোলাম মর্তুজা, কেএই দুঃষাহশি ব্যক্তি কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির অভিযান, বিপুল ভারতীয় পণ্য জব্দ বাহরাইন প্রবাসী সাংবাদিক শাহিন শিকদার ইন্তেকাল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে নতুন ব্যবস্থা আফগানিস্হানে ভূমিকম্পে চাপাপরা ণারীদের উদ্ধার করছেন না উদ্ধারকর্মিরা রাজবাড়ীতে নুরু পাগলার মাজারে হামলা, লাশতুলে পুড়িয়ে ফেলে জনতা

অল্পের জন্য বেঁচে গেলো দৈনিক ইনকিলাবের প্রবীন সাংবাদিক মাওলানা আবুল কাসেম গাফুরির জীবন

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৯৬৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

এসকে.হোসাইন:
ডাক্তারদের পৈশাচিক মনোভাব,আর অর্থের নেশার কাছে মানুষের জীবনের মুল্য কতোটা তুচ্ছ তা তাদের হীন পৈশাচিক মনোভাবে প্রতীয়মান।
আর তারই শিকারের বলির পাঠা হতে যাচ্ছিলেন আরো একটি জীবন।
আমাদের রোগবালাই, আর অসুস্হতার ক্ষেত্রে আল্লাহর পরেই আমরা ডাক্তারদেরকে বিশ্বাস করি আমাদের বেচে থাকা বা সুস্হ হয়ে উঠার মাধ্যম হিসেবে।
আল্লাহর পরে যাদের উপর আমাদের নিজেদের বাঁচা মরা নির্ভর করে, তারাই যদি আমাদেরকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়, তারাই যদি আমাদের জীবনের চেয়ে টাকা কামাই করাটাকে মুখ্য বিষয় বলে ধরে নেয়, আর আমাদের বাঁচা মরার তাওয়াক্কা না করে তাহলে তাদের এই মানব সেবা পেষাটাকে আমরা কি নাম দেবো?
তাহলে সাধারন মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কোন মাধ্যম কে বেছে নেবে? সাধারন মানুষগুলো কাকে বিশ্বাস করবে? আর কাকেইবা নিজের বাঁচা-মরার মুহুর্তে চিকিৎসার দায়িত্ত দেবে?

এবার আশাযাক মুল কথায়। “মাওলানা সাংবাদিক আবুল কাশেম গাফুরি”, তিনি দৈনিক ইনকিলাব সংবাদপত্রের একজন প্রবীন সাংবাদিক। কুমিল্লা সংবাদপত্র এসোসিয়েশন এর সভাপতি। নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক। তিনি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানাধীন-বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের-চারিজানিয়া গ্রামে বসবাস করেন। তিনি একজন সাবেক মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়ীত্ত পালন করেছিলেন।

তিনি একজন হার্টের রোগি। হার্টের রোগে ভুগছেন ২০০৯ সাল থেকে।
গত কিছুদিন পুর্বে হার্টে পুনরায় ব্যাথা অনুভব হলে, “ডক্টর সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল” এর কার্ডিও সার্জান প্রফেসর ডক্টর প্রদীপ কুমার কর্মকার এর নিকট শিকিৎসার জন্য যান। তিনি নানাবিধ পরিক্ষা – নিরিক্ষা করতে বলেন, ইসিজি, ইকো, ব্লাড সুগার ইত্যাদি। সকল পরিক্ষায় ভালো রেজাল্ট দেখা গেলেও সাংবাদিক গাফুরি সাহেব সুস্হতা অনুভব করছিলেন না। দীর্ঘ দু-সপ্তাহ ধরে ডক্টরের তত্তাবধানে থেকে অবশেষে তার পরামর্ষে এনজিও গ্রাম করার সিদ্ধান্ত নেন।
অতঃপর তাঁর হার্টের মধ্যে চারটা ব্লক রয়েছে বলে ডক্টর প্রদীপ কুমার কর্মকার তার স্ত্রী জনাবা শেখ সাহিদা নাজনীন কে চেম্বারে ডেকে জানান। এবং দ্রুত হার্টে রিং অথবা অপেন হার্ট সার্জারি করার পরামর্শ দেন।
একই দিনে মর্ধান্য বেলায় পুনরায় ডক্টর প্রদীপ কুমার, সাংবাদিক গাফুরির স্ত্রীকে তার চেম্বারে ডেকে পাঠান, এবং তিনি পুনরায় বলেন সাংবাদিক সাহেবের হার্টে চারটি ব্লক রয়েছে তার মধ্যে দুটি পুর্বের ব্লক এবং দুটি নতুন স্হানে ব্লক দেখা যাচ্ছে। এখানে দুটি ব্লকে পুর্বে রিং লাগানো হয়েছিলো।

এমতাবস্হায় চারটি ব্লকের তিনটিতে রিং ও একটিতে বেলুন লাগাতে হবে বলেও তিনি জানান। ডক্টর প্রদিপ আরো বলেন, আপনারা পারিবারিক ভাবে সকলে পরামর্ষ করে সিদ্ধান্ত নিন, রিং লাগাবেন নাকি বাইপাস অপারেশন করাবেন। এখানে বাইপাস অপারেশনে ১০ % মৃর্তুর ঝুঁকি ও রিং লাগালে ৩% মৃর্তুর ঝুঁকি রয়েছে। আপনারা পারিবারিক ভাবে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে জানান।

একটা বিষয় বলে রাখি ২০০৯ সালে সাংবাদিক গাফুরি এই ড:প্রদীপ কুমার কর্মকার এর মাধ্যমে তাঁর হার্টের একটি রিং বসিয়েছিলেন। তার এক মাষ পরই রিংটি চেঁপে যায় পুনরায় ব্লক হয়ে যায়। অতঃপর পুনরায় সেই একই রিং এর ভেতরে আরেকটি রিং প্রতিস্হাপন করা হয়েছিলো। এর কয়েক বছর পর ২০১৯ সালে হার্টের আরেকটি ব্লক দেখাদিলে সেটার মধ্যেও ডঃ প্রদীপ কুমারই রিং স্হাপন করে থাকেন।
সাংবাদিক গাফুরির পরিবারের সকলে ডক্টরের কথামতে হাসপাতালে এসে আলোচনায় বসে। তারা কোন্ সিদ্ধান্তে পৌছানো যায় বা কোন্ সিদ্ধান্ত নিবে তা পরামর্শ করে। কিন্তুু তারা কোনো ফাইনাল সিদ্ধাতে পৌছতে পারছিলোনা। তখন সাংবাদিক গাফুরি নিজেই ডঃপ্রদীপ কুমার তাঁর বেডে আসলে তাকে নিজের অর্থনৈতিক দুর্বলতার দিকগুলো খুলে বলেন এবং তিনি কোন্ অপারেশন টা করালে জীবনটা বেঁচে যাবে তা নিয়ে আলেচনা করেন। এবং তিনি আরো বলেন, ডক্টর সাহেব আল্লাহর পর আপনার উপর আমার বিশ্বাস, আমি আরো ৩ বার আপনার মাধ্যমেই হার্টে রিং স্হাপন করেছি তাই আপনি বলুন কোন অপারেশনটা আমার জন্য ভালো হবে, এবং আমি সুস্হ হয়ে উঠবো।
ডক্টরের সেই একই কথা যে, আমিতো বল্লাম রিং লাগালে ৩% ঝুঁকি আর বাইপাস অপারেশনে ১০% ঝুঁকি এবার আপনারা সিদ্ধান্ত নেন। এবলে ডক্টর প্রদীপ চলে যান রোগির বেড থেকে।
কিছুক্ষন পর পুনরায় ডক্টর প্রদীপ সাংবাদিক এর স্ত্রী শেখ সাহীদা নাজনীনকে তার চেম্বারে আসতে বলেন, তিনি তাকে যানান দেখুন হার্টের রিং লাগাতে ১০০ জনের মধ্যে ৩ জনের মৃর্তু হয়। এখন এমনওতো হতে পারে যে সাংবাদিক সাহেব এই ৩ জনের মধ্যে একজন।
ডাক্তারের মুখ থেকে এমন কথা শুনে তার কলিজায় আঘাত লাগে, কলিজাটা চিপ মেরে আসে, তিনি আতন্কিত হয়ে যায়। ডাক্তারের মুখ থেকে এমন কথা শুনে কে ই বা স্হীর থাকতে পারে!

চেম্বার থেকে ফিরে এসে বিষয়টা তার স্বামি গাফুরিকে জানান, ডাক্তারের এমন কথা শুনে সাংবাদিক গাফুরিও আতকে উঠেন। এখন কি তাহলে রিং বসানোটা তার কন্য অধীক ঝুঁকিপুর্ন? এমন প্রশ্ন পরিবারের সকলের মনের মাঝে আতণ্কের বাসা বেঁধেছে।
সাংবাদিক গাফুরির মেঝ ভাই হাশেম মজুমদার তখন ঢাকার লেব এইড হসপিটালে গিয়ে,
কার্ডিওলজিস্ট প্রফেসর ড: লুৎফুর রহমানকে সকল রিপোর্ট দেখান এবং কোন অপারেশনটা সঠিক হবে তা যানতে চায়। রিং লাগানো উচীৎ নাকি বাইপাস করানোটা ভালো হবে একটু পরামর্শ চান তাঁর নিকট।

প্রফেসর ড: লুৎফর রহমান তিনি একজন অভীগ্য হার্ট বাইপাস সার্জেন। তিনি সাংবাদিক গাফরির সকল রিপোর্ট ভালো করে দেখেন এবং বলেন সাংবাদিক সাহেবের হার্ট ভীষন দুর্বল, এবং ৩ বার রিং লাগানো হয়েছে। একই স্হানে দুটো রিং প্রতিস্হাপন করা হয়েছে। এমতাবস্হায় রিং লাগালে তিনি মারা যাবে, এমনটাই তিনি গাফুরির ভাইকে খুলে বীষদ ভাবে জানান।
সেখান থেকে সাংবাদিক গাফুরির ভাই ডঃসিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে আসেন যেখানে সাংবাদিক গাফুরি দু সপ্তাহ ধরে এডমিট হয়ে আছেন।
সকল বিষয় তাকে অবহিত করেন। এবং গাফুরি পুনরাং ড: প্রদীপ কুমারের নিকট যান এবং অসহায়ের মতো যানতে চায়, ডক্টর সাহেব আপনি একটু বলুন আমি রিং লাগালে ভালো হবে নাকি বাইপাস অপারেশন করলে ভালো হবে।

ডক্টর প্রদীপ সাহেব এর একই কথা, তিনি বলেন আমিতো আপনাদেরকে যানিয়েছি, রিং লাগালে ১০০ জনে ৩ জন মারা যায়। আর বাইপাস অপারেশনে ১০০ জনে ১০ জন মারা যায়। তার ভাই তখন বলে ডঃ লুৎফর রহমান বল্লেন আমার ভাই মারা যাবে যদি এখন তার হার্হটে রিং বসানো হয়।

এমন কথার প্রেক্ষিতে ডঃ প্রদিপ কুমার বলেন দেখেছেন!  আমরাতো এমনটা বলিনা, যদিও আমি একজন হার্টের রিং লাগানোর ডক্টর। আমি বলি আপনার দুটো পদ্দতি রয়েছে যে কোনো একটা বেছে নিতে পারেন। কিন্তু ড: লুৎফর রহমান একজন হার্টের বাইপাস অপারেশনের ডক্টর, তিনি তাই শুধু মাত্র বাইপাস করতেই বলেছে।

কোনো সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারছেন না গাফুরি ও তার পরিবারের লোকজন। সাংবাদিক গাফুরির অবিচল আস্হা রয়েছে ডঃ প্রদীপ কুমারের প্রতি। কেননা পুর্বেও তার চিকিৎসায় ছিলেন এমনকি তার হার্টে তিনি ৩ বার রিং স্হাপন করেন।

কিন্তু এখন এমন পরিস্হিতিতে কোন ডাক্তারের কথাকে বিশ্বাষ করবে তা বুঝে উঠা খুব কঠিন হয়ে পরেছে তাদের বেলায়। কোন পঁথ বেছে নিলে জীবনটা বেঁচে যাবে তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা পরিবারের সকলের মনে।

অবশেষে ডঃ প্রদীপকুমারের কথাটাকে প্রাধান্য দেয় সাংবাদিক গাফুরি। এবং হার্টে রিং স্হাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়।

একটা বিষয়ে বলে রাখি সাংবাদিক গাফুরির হার্টের অবস্হা অনেক দুর্বল হার্ট রেট অনেক কম। আর হার্টের রিং যেখানে একই স্হানে দু-দুবার রিং প্রতিস্হাপন করা হয়েছে, সেখানে যদি তৃতীয় বার রিং স্হাপন করা হয় তাহলে এটা সাক্সেস হওয়ার সম্ভাবনা ১ পারসেন্ট। যদিও দক্ষ ডক্টর প্রফেসর প্রদীপ কুমার কর্মকার সব বিসয়ে ভালো করেই অবহিত আছেন। তথাপিও ৪৬০,০০০ চারলাখ ষাট হাজার টাকার লোভটা সামাল দেয়া তার পক্ষে কোনক্রমেই সম্ভবপর ছিলোনা। টাকা কার কাছেই বা অপ্রিয়। কিন্তুু একটা কথা থেকে যায়, একটি মানুষের জীবনের মুল্যের চাইতে কি টাকার মুল্য অধীক? একটি জীবনের বিনিময়ে একজন ডাক্তারের নিকট ৪৬০ ০০০ টাকার মুল্য অধীক প্রিয়? এই টাকার অংকটার লোভ সামলাতে পারলোনা একজন মানব সেবক নামক  অর্থলোভি। এটা আমাদের কারোর পক্ষে যেমন মেনে নেয়া অসম্ভব ও কস্টকর।  তেমনি আমাদের হৃদয়ে ডাক্তারদের প্রতি একটা অবিশ্বাসের স্হান তৈরি করে।

অৎঃপর সাংবাদিক গাফুরির হার্টে রিং স্হাপনের সকল কার্যক্রম সুরু হয়।

তার হার্রের চারটি ব্লকের তিনটিতে রিং ও একটিতে বেলুন লাগানের জন্য, ধার দেনা করে চার লক্ষ ষাট হাজার টাকা যোগার করে আনা হয়।

কিন্তুু আল্লাহর অপার মহিমায় জানে বঁচে যান আশাহত বাচা-মরার সন্ধিক্ষনে ডাক্তারের প্রতি চেয়ে থাকা সাংবাদিক গাফুরি।

কথায় আছে রাখে আল্লাহ তো মারে কে।

গত ৮.০১.২৫ তারিখে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায় সাংবাদিক গাফুরিকে। একটি কাগজে তার সাইন ও তার স্ত্রীর সাইন নেয়া হয়, যদিও পুর্বে প্রতিবার রিং লাগানোর সময় একজনের-ই সাইন নেয়া হতো, কিন্তু এ বার রিস্ক বেশি থাকায় হয়তো দুজনের সাইন নিয়েছে ডক্টর এমনটাই ভাবছেন গাফুরির স্ত্রী।
ব্যাদনাহত হৃদয় নিয়ে সকলে আল্লাহকে ডাকছে, গাফুরির জীবন ভিক্ষা চাইচে মনে মনে।

এমন সময় হঠাৎ করে ওটি রোম থেকে একজন সহকারি ডক্টর সাংবাদিক গাফুরির স্ত্রীর নিকট আসে এবং আরেকটা লিখিত কাগজে তাকে সাইন করতে বলেন, কারন জানতে চাইলে বলে ডক্টর বলেছে এখানে সাইন করতে হবে। তখন তিনি এতে কি লিখা আছে তা জানতে চান এবং লিখিত কাগজ খানা তার হাতে দিতে বলেন। কিন্তু সহকারি ডক্টর কাগজটি তার হাতে তুলে দিতে নারাজ। সে তার হাতে কাগজ খানা রেখেই বলে আমি দেখাচ্ছি আপনি পড়ুন।
গাফরির স্ত্রী তিনি কাগজে লিখিত দু লাইন পড়ার পর আতংকে কাঁপতে থাকে, তার হাত পা যেন অবস হয়ে আসছে এমনটা যানান, মহিলা মানুষ একেতো স্বামির চিন্তায় আগে থেকেই ভীত হয়ে আছে তার উপর ডক্টরদের এমন লিখিত কাগজে সিগনেচার দেয়ার কথা ভেবে ভয়ে কাপতে থাকে।আর চীৎকার করে বলতে থাকে আপনারা কেনো এমন লিখিত কাগজে আামার সাইন নিতে চান? আমি আমার স্বামীকে দেখতে চাই, একথা বলে ওটি রোমে যেতে বাধা দেয়া সত্যেও  এক প্রকার যোর করেই ওটির ভেতরে ঢুকে পরেন। স্বামীকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন এবং বলতে থাকে আমার রোগির হার্টে রিং লাগাবোনা, আমি এই কাগজে সিগনেচার ও করবোনা। রোগির স্ত্রীকে দেখে এক পর্যায়ে ডঃপ্রদীপ কুমার ঘাবরে যায়। এবং বলতে থাকে একটা সাইন ইতো চেয়েছি, আপনার সম্পত্তিতো আর লিখে নিচ্ছিনা। থাক আপনি আপনার রোগি নিয়ে চলে যান। তার রিং লাগাবোনা।
রোগিকে হুইল চ্যায়ারে করে কেবিনে নিয়ে আসা হয়। পরে ডঃ প্রদিপ রোগির কেবিনে এসে বলে। আচ্ছা আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে আপনারা উনাকে বাইপাস অপারেশন করান। রিং বসানোটা উনার জন্য একটু ঝুকিপুর্ন,  তাই হয়তো আমাদের টিম আপনার আরেকটা সিগনেচার চেয়েছিলো। তখন সাংবাদিক গাফুরির এক মেয়ের জামাতা বলে আপনিতো আমাদেরকে এমনটা আগে বলেননি যে, উনার রিং লাগানো ঝুঁকি পুর্ন হবে। তাহলেকি আমরা রিং লাগানোর চিন্তা করতাম? আমরা অবস্যই বাইপাস অপারেশন করাতাম। আপনি বলেছেন রিং লাগানোটা কম ঝুকি পুর্ন। আর তাই আমরা এতে সম্মতি হয়েছি।

সেখানে যা লিখা ছিলো:

“আমরা ড:প্রদীপ কুমার কর্মকারকে তার চিকিৎসাধীন সাংবাদিক গাফুরির হার্টে রিং লাগানোর জন্য অনুরোধ করেছি। যদিও তিনি আমাদেরকে তার হার্টের বাইপাস অপারেশন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাই রিং স্হাপনার পর কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এর জন্য ডক্টর প্রদীপ কুমার দায়ী নন।”

সাংবাদিক গাফরির স্ত্রী newsindependent24 কে যানান এমন লিখিত কাগজের মাধ্যমে তো বুঝা যায় আমার স্বামিকে তারা টাকার জন্য হত্যা করতে চেয়েছিলো। মাত্র চারলাখ ৬০ হাজার টাকার লোভে আমার স্বামির প্রান চলে যেতো। আর কাগজটিতে আমি সাইন করলে এটা একটা সুই-সাইড লেটার হিসেবে তারা আইনের কাছে দেখাতে পারতো। আল্লাহর মেহেরবানিতে আমার স্বামি বেঁচে যায়। এই সিগনেচারের জন্য যদি তারা আমার মিকট না পাঠাতো আর অপারেশন (হার্টের রিং) লাগানো আরম্ভ করতো তাহলেতো আমার স্বামিকে আমি হারাতাম। আর আমার সন্তানগুলো এতিম হয়ে যেতো। এই শিক্ষিত সমাজের প্রথম স্রেনির মানুষ গুলোর কাছে কি একটি জীবনের চেয়ে টাকা টাই অধীক প্রিয়? আমরা যাদেরকে আল্লাহর  পর নিজেদের জীবন বাচানোর কারিকর মনে করি, আসলে কি তারা আমাদের জীবন রক্ষক নাকি আমাদের জীবন নিয়ে খেলা করছে?

যেখানে ১ পার্সেন্ট বাঁচার সম্ভাবনা ও ছিলনা অথচ ডাক্তার আমার স্বামিকে ওটিতে নিয়ে গেছে রিং বসাতে। আর সামান্য কিছু সময় অতিবাহিত হলেই আজ আমি বিধবা হতাম। আমার সন্তানগুলো হতো পিতা হারা। এসব কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।

সাংবাদিক গাফুরির মেঝ ভাই পুনরায় ঢাকা নেশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটালে ১০.০১.২৫ তারিখে  সকল পরিক্ষার রিপোর্টগুলো নিয়ে প্রফেসর ডঃ হাবিবুর রহমানকে দেখান। তিনি গাফুরির সমস্হ পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো করে দেখেন এবং ওপেন হার্ট সার্জারি করতে পরামর্শ দেন।

অতঃপর গত ১৩.০১.২০২৫ তারিখে সকল চিন্তা ভাবনার অবশান ঘটিয়ে ঢাকার ” লেব এইড হসপিটাল” এর প্রফেসর ডক্টর লুৎফর রহমানের নিকট তাঁর তত্তাবধনে ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এখন তিনি অনেকটা সুস্হ রয়েছেন।

এবং সাংবাদিক গাফুরি সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD