ইসলামে ‘নাজাত’ শব্দের অর্থ মুক্তি বা পরিত্রাণ। এটি মূলত পরকালে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি বোঝায়। ইসলামে নাজাতের ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এটি অর্জনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট উপায় রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
নাজাতের উপায়:
* ঈমান (বিশ্বাস): ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা, যেমন আল্লাহর একত্ববাদ, নবী-রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস, এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস।
* আমল (কর্ম): ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ সঠিকভাবে পালন করা, যেমন নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত এবং অন্যান্য সৎ কাজ করা।
* তওবা (অনুতাপ): অতীতের পাপগুলোর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে সেগুলো থেকে বিরত থাকার প্রতিজ্ঞা করা।
* আল্লাহর রহমত (দয়া): শেষ পর্যন্ত, নাজাত আল্লাহর রহমতের উপর নির্ভরশীল। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করতে পারেন।
ইসলামে, রমজান মাসকে নাজাতের মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মাসে, আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই, রমজান মাসে বেশি বেশি ইবাদত ও সৎ কাজ করা উচিত।
এছাড়াও, ইসলামে কিছু নির্দিষ্ট আমল বা কাজকে নাজাতের উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন:
* পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সঠিকভাবে আদায় করা।
* কোরআন তিলাওয়াত করা এবং এর শিক্ষা অনুযায়ী জীবনযাপন করা।
* গরীব ও অসহায়দের সাহায্য করা।
* সদাচরণ ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা।
মনে রাখবেন, নাজাত শুধুমাত্র আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তাই, আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
Leave a Reply