মধ্যপ্রাচ্চের দেশ বাহরাইনে পালিত হচ্ছে পবীত্র মহররম।
মুসলিম ধর্মালম্বিদের মধ্যে আরেকটি উপাশনার দিন হলো মহররমের ৯-১০ তারিখ। মুসলিম সম্পদায়ের সুন্নি মুসলিম গন এই দু দিন রোজা রেখে যথেস্ট ফযিলত অর্জন করেন। কেননা রসুল মোহাম্মদ (সাঃ) এই দু দিনের সিয়াম এর ফজিলত সম্পর্কে যথেস্ঠ বর্ননা দিয়েছেন।
তবে শিয়া সম্রদায়ের লোকেরা রোজা রাখেন এবং মাতম করেন। মহররম মাসের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পযন্ত শোক পানল করেন। তবে ৯-১০ তারিখে মাতম করেন। নিজের শরীরে নিজেই আঘাত করে মাতম করে থাকে।
ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম—একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও গভীর ভাবগম্ভীরতার মাস হিসেবে মুসলিম সমাজে উদযাপিত হয়। হিজরি সন অনুসারে নতুন বছরের সূচনার এই মাসটি শুধু ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন নয়; এটি বহন করে শোক, আত্মত্যাগ ও সত্যের পথে অটল থাকার এক ঐতিহাসিক বার্তা।
মহররমের ১০ তারিখ, যেটি ‘আশুরা’ নামে পরিচিত, ইসলামের ইতিহাসে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য চিরস্মরণীয়। হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম, বর্তমান ইরাকের কারবালার প্রান্তরে ইয়াজিদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ান মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.)। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবার এবং অনুসারীরা ভয়ঙ্কর যুদ্ধের সম্মুখীন হন। অবশেষে তাঁরা শহীদ হন, কিন্তু মাথা নত করেননি অন্যায়ের কাছে।
এই আত্মত্যাগ ছিল ইসলামের নীতিগত অবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইমাম হোসাইনের বলিদান আজও মানবতা, ন্যায্যতা ও আত্মদানের প্রতীক হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্মরণীয়।
মহররম শুধু শোকের মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য এবং নৈতিক শক্তির প্রতীক। ইসলামের চতুর্মুখী পবিত্র মাসের একটি এই মহররম। এই মাসে যুদ্ধ নিষিদ্ধ ছিল আরব ঐতিহ্যে, এবং ইসলাম সেই রীতিকে সম্মান করে।
আশুরার দিন নানাবিধ ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী:
তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে আশুরা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার কারণে।
বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা মহররম মাসে বিশেষ আমল করে থাকেন। অনেকে নফল রোজা রাখেন ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম তারিখে। বিভিন্ন দেশে শোক মিছিল, মাহফিল, দোয়া ও তাজিয়া মিছিল আয়োজন করা হয়, বিশেষ করে শিয়া মুসলিমদের মধ্যে এই আয়োজন ব্যাপক।
বাংলাদেশেও মহররম মাসে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল এবং রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে।
মহররমের শিক্ষা আমাদের বলে—ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে ভয় নেই, আত্মত্যাগ যদি প্রয়োজন হয় তবুও অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়। কারবালার ইতিহাস শুধু শোক নয়, এটি শিক্ষা দেয় সাহস, আদর্শ ও চেতনার।
এই পবিত্র মাস যেন আমাদের জীবনে এনে দেয় শান্তি, সহমর্মিতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি।
Leave a Reply