ভালোবেসে বিয়ে করেন নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার মেয়ে রোজী আক্তারকে। পরিবারের অমতে বিয়ে করার কারণে তার স্ত্রীকে মা–বাবা মেনে নেয়নি। বলতে গেলে ভালোবেসে বিয়ে করার কারণে নিজ পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজন থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যান আবু জাফর। নিউ মার্কেটে একটি পরিচিত দোকানে চাকরি করে কোন রকম দুঃখ–কষ্টে সংসার চালাতেন।
একসময় ভাগ্যের অন্বেষায় রিজিকের সন্ধানে আবু জাফর পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে। প্রথমাবস্থায় চাকরি ও পরবর্তীতে ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। চট্টগ্রাম শহরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় স্ত্রীর নামে জায়গা ক্রয় করে বাড়ি নির্মাণ করেন প্রবাস জীবনে কষ্টার্জিত সমস্ত অর্থ ও সম্পদ সব স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখতেন।
দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরে আসেন আবু জাফর। নিজস্ব বাড়ি ও ভাড়াঘর এবং ব্যবসা–বাণিজ্য সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক আবু জাফর। নিজ স্ত্রী, দুই ছেলে ফাহিম ও নাইম এবং একমাত্র কন্যা প্রিয়াংকাকে নিয়েই কাজীর দেউড়ির ২ নম্বর গলির ১৬১৬ নম্বর বাড়িতে সুখের নীড় গড়ে তোলেন আবু জাফর।
এ সুখ খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি আবু জাফরের জীবনে। সংসার জীবনে নেমে আসে এক বিভীষিকাময় অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়। স্ত্রীর সাথে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া–ঝাটি লেগেই থাকত। ১০/১২ বছর আগে পারিবারিক ঝগড়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রী যৌ’তু’কের দাবিতে নারী নি’র্যা’ত’ন আইনে মা’ম’লা করে আবু জাফরের বিরুদ্ধে। যাকে ভালোবাসার কারণে নিজের বাবা–মা, ভাই–বোন পরিত্যাগ করেছেন এবং নিজের উপার্জিত সব অর্থ যার একাউন্টে জমা করেছেন, যার নামে জায়গা ও বাড়ি করেছেন—সেই ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকেই যৌতুকের জন্য নারী নি’র্যা’ত’নে’র অভিযোগে মর্মাহত হন আবু জাফর। স্ত্রীর এ ধরনের আচরণ সহ্য করতে না পেরে নিরবে আদালতের রায় মেনে নিয়ে জেলেই চলে যান হতভাগা আবু জাফর।
বছর ছয়েক আগে জেল থেকে বের হয়ে কাজীর দেউড়ির বাড়িতে গিয়ে দেখেন—স্ত্রীর নামে কেনা কোটি টাকার জায়গা ও বাড়ি সব বিক্রি করে দিয়ে সন্তানদের নিয়ে স্ত্রী অন্যত্র চলে গেছে। ক্ষোভে, দুঃখে, অ’প’মানে স্ত্রী ও সন্তানের কাছে আর ফিরে যাননি। বেছে নেন ভবঘুরে জীবন। ফকির বেশে মাজারে মাজারে ঘুরে চলতে থাকে আবু জাফরের জীবন।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘির পূর্ব পাড়ে হযরত শাহ আমানত শাহ (রহ.) মাজারের সামনের রাস্তার পাশেই ক্ষুধার্ত, অসুস্থ, অচেতন ও সাড়াশব্দহীন অবস্থায় মোহাম্মদ আবু জাফরকে পাওয়া যায়। সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালী থানার সাব–ইন্সপেক্টর (এসআই) বাবুল পাল আবু জাফরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা মৃ’ত ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে মৃ’তদেহের পকেটে পাওয়া এনআইডির সূত্র ধরেই আবু জাফরের ঠিকানা ও বৃত্তান্ত পাওয়া যায়।
এ সমাজে শুধু নারী নির্যা”তন’ই হয় না, কিছু কিছু পুরুষও নি’র্যা’তি’ত হয়—যা অনেকটা খালি চোখে দেখা যায় না।
Leave a Reply