সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হাদিকে গুলি করা দুর্বৃত্ত গোয়েন্দাদের হাতে তৃতীয় বারের মতো পেছাল খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রা যা বললেন জাহেদ উর রহমান নির্বাচনের আগে দেশে ফিরবেন না তারেক রহমান ভালোবেসে বিয়ে অত:পর চীর বিদায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা দিলেন বিচারক গোলাম মর্তুজা, কেএই দুঃষাহশি ব্যক্তি কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির অভিযান, বিপুল ভারতীয় পণ্য জব্দ বাহরাইন প্রবাসী সাংবাদিক শাহিন শিকদার ইন্তেকাল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে নতুন ব্যবস্থা আফগানিস্হানে ভূমিকম্পে চাপাপরা ণারীদের উদ্ধার করছেন না উদ্ধারকর্মিরা রাজবাড়ীতে নুরু পাগলার মাজারে হামলা, লাশতুলে পুড়িয়ে ফেলে জনতা

স্ত্রী মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হবে এমন বিশ্বাষে ঘরে ৬দিন লাশ রেখে দেয়াহয়।

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০২৩
  • ৭৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

শেখ সাদিয়া জোসাইন:

স্ত্রী মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হবেন এমন অন্ধবিশ্বাস নিয়ে মৃত্যুর ছয় দিন পরও ঘরের মধ্যে লাশ রেখে দিয়েছেন সামী। কিন্তু ছয়দিনেও লাশ জীবিত হয় নি। দু্র্গন্ধ ছড়িয়ে পরেছে পুরো এলাকায়।

এমন এক ঘটনা ঘটেছে নরসিংদুর মনোহরদি পৌরোসভার বাজারের পাশে।এক অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকের পরিবারে এই ঘটনা ঘটে।
মনোহরদি পৌরোসভার বাজারের পাশে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোকতার উদ্দিন তালুকদার। সঙ্গে তার স্ত্রী সামিমা সুলতানা নাজমা চার মেয়ে ও দুই নাতি, দুই নাতনী থাকতেন। তারা সবাই আটরশি পীরের ভক্ত ছিলেন। তারা কেউ বাসা থেকে খুব বেশি বের হতেন না।নিজের বাড়িতে অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে থাকতেন। এই নিয়ে প্রতিবেশীরা জিজ্ঞেস করলে
সঠিক উত্তরও দিতেন না।

প্রতিদিন রাত তিনটা থেকে ভোর পযন্ত জিকির করা ছিল এমনটাই ছিল তাদের প্রতিদদিনের রুটিন। আটরশি পিরের মতাদর্শকে পালন করতেন মনেপ্রানে।

মোকতার উদ্দিন তালুকদারের স্ত্রী, সামিমা সুলতানা নাজমা, তার স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বলে গিয়েছেন, যদি তিনি কোনদিন মারা যান তাহলে তার লাশ ঘরে রেখে যেন অপেক্ষা করা হয়। তিন থেকে চার দিন পর তিনি পুনরায় জীবিত হয়ে ফিরে আসবেন তাদের মাঝে। যেমন আদেশ তেমনই তার পালন।

হঠাৎ করে গত সোমবার সামিমা সুলতানা নাজমা মারা গেলে, তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মাথায় রেখে, আশপাশের কাওকে জানায়নি। তারা সবাই মায়ের জীবিত হওয়ার আশায় লাশ খাটের নিচে যত্নকরে রেখে দেয়। একে একে ছয় দিন রেখে দেয় নাজমার মৃত দেহ। কিন্তু সে আর ফিরে আসেনি।

এরই মধ্যে মৃত দেহে পচন ধরে দুগন্ধ চড়াতে থাকে। দুগন্ধ তীব্র হলে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেয়।পুলিশ এসে তাদের ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া দদেয়না তারা। ঘরের দদরজা বন্ধ করে ভেতরে লুকিয়ে থাকে। অবশেসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতর যায় পুলিশ। সেখানে পরিবারের সকলকে ঘরে অবস্থান করতে দেখাযায়। ঐ সময় খাটের নিচে নাজমার মৃতদেহ দেখতে পায় পুলিশ। মরদেহ উদ্বার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিনদি সদর হাসপাতালে পাঠায়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আশা হয়।সেখান থেকে তাদের মনহরদী সাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতি্ করা হয়।মনোহরদী সাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অপিসার বলেন থানা থেকে তাদের রাতেই হাসপাতাল নিয়ে আসা হয়েছিল।পেশার বেশি দেওয়ায় তাদের চিকিৎসা করা হয়েচে, কিন্তু তাদের কোনো শারিরীক সমস্যা পাওয়া যায় নি।মনোহরদীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন,তারা এক পীরের মুরিদ ছিলেন, জিকির করা অবস্থায় নাজমার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন। পুনরায় জীবিত হবে এই আশায় তারা লাশ খাটের নিচে রেখে দিয়েছেন। এটি স্বাবাবিক নাকি অস্বাবাবিক মৃত্যু তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। তারা একটি তোষকের মধ্যে লাশ পেচিয়ে খাটের নিচে রেখে দিয়েছেন এবং ওই রুমটিতেই অবস্থান করেন তারা। তারা আরও জানায় তাদের কাছে কোনো দুরগন্ধ লাগে নি, তাদের টেবিলে খাবার ছিলো এবং তাদের আচরণ অস্বাভাবিক ছিলো।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD