শেখ সামীরা হুসাইনঃ
টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল নূরুল হক (৬৩), আবু তালেব (৯০), হাবিবুল্লাহ হবি (৬৭), আক্কাস আলী (৫০) নামে চার মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নূরুল হক সিলেট জেলার জয়েন্তপুর থানার হেমুবটেপাড়া, আবু তালেব গাজীপুরের ভুরুলিয়া, হাবিবুল্লাহ হবি ঢাকার কেরানীগঞ্জ এবং আক্কাস আলী ঢাকার যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা। জানাজা শেষে তাদের লাশ গ্রামের বাড়ি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইজতেমা আয়োজক কমিটির মিডিয়া সমন্বকারী মুফতি জহির ইবনে মুসলিম।ঢাকার যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা আক্কাস গতকাল বিকালে ময়দানের ৪২১ নম্বর হালকায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী আবদুন নূর জানান, ‘নুরুল হক অ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। সকালে ইজতেমা ময়দানের ৬২ নম্বর খিত্তায় অবস্থানকালে নুরুল হকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তার মৃত্যু হয়। দুপুরে জোহরের নামাজের পর ইজতেমা ময়দানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।একই দিন আসরের নামাজের পর বার্ধক্যজনিত কারণে আবু তালেব মারা যান। তিনি তাবলিগ জামাতের গাজীপুর মারকাজের সুরা সদস্য ছিলেন। এশার নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
[14/01, 7:23 pm] Sheikh Samira Hossain: ডাকাত সন্দেহে কুমিল্লায় পিটিয়ে দুজনকে হত্যা
কুমিল্লার মুরাদনগরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। গতকাল ভোররাতে উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের পালাসুতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ বলছে, হতাহতরা ডাকাত কি না তা কোনো সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।তারা কারও বাড়িতে ডাকাতি করেছেন এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। ফলে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন কাজিয়াতল গ্রামের আবদুস ছালামের ছেলে নুরু মিয়া (২৮) ও পালাসুতা গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (২৭)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শাহজাহান সদর দক্ষিণ থানার বাগমারা গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোড়ার চর গ্রামে ডাকাতি করতে এসে ধাওয়া খেয়ে ডাকাত দলের তিন সদস্য পালাসুতা গ্রামের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে এলাকার মাইকে ঘোষণা করা হয়। তখন আশপাশের কয়েক গ্রামের সহস্রাধিক লোক জড়ো হয়ে নাবু মিয়ার ঘর থেকে তার মেয়েজামাই ও দুই বন্ধুকে ধরে নিয়ে পিটুনি দেয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত নুরু মিয়ার শ্বশুরবাড়ি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে দুই রকম তথ্য পাওয়া গেছে। তবে কেউই তারা কোথায় বা কার বাড়িতে ডাকাতি বা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সে তথ্য দিতে পারেনি। তাদের অতীত কর্মকান্ড যাচাই করা হচ্ছে।
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মর্গে) পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply