শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হাদিকে গুলি করা দুর্বৃত্ত গোয়েন্দাদের হাতে তৃতীয় বারের মতো পেছাল খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রা যা বললেন জাহেদ উর রহমান নির্বাচনের আগে দেশে ফিরবেন না তারেক রহমান ভালোবেসে বিয়ে অত:পর চীর বিদায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা দিলেন বিচারক গোলাম মর্তুজা, কেএই দুঃষাহশি ব্যক্তি কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির অভিযান, বিপুল ভারতীয় পণ্য জব্দ বাহরাইন প্রবাসী সাংবাদিক শাহিন শিকদার ইন্তেকাল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে নতুন ব্যবস্থা আফগানিস্হানে ভূমিকম্পে চাপাপরা ণারীদের উদ্ধার করছেন না উদ্ধারকর্মিরা রাজবাড়ীতে নুরু পাগলার মাজারে হামলা, লাশতুলে পুড়িয়ে ফেলে জনতা

১৯৭৪ সালের একটি মমস্পর্শি চিত্র

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৪
  • ১৩২৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

এই সেই কুখ্যাত ছবি !!
জাল পরা বাসন্তি ডানে আর বামে দাঁড়ানো বাসন্তির চাচাতো বোন দূর্গতি
বাসন্তিকে মাছ ধরার জাল পরিয়ে ছবিটা তোলে ফটোগ্রাফার আফতাব আহমেদ। প্রকাশিত হয়েছিলো দৈনিক ইত্তেফাকে। প্রথমে প্রকাশিত হয় ৩১ শে জুলাই ১৯৭৪ বুধবার এবং পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ১১-ই সেপ্টেম্বর, বুধবার; ইত্তেফাকের ভেতরের ক্রোড়পত্রে। তৎকালিন ইত্তেফাকের সম্পাদক ছিলো ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। মানিক মিয়া সাহেবের বড় পূত্র।

আপনারা অনলাইনে এই বাসন্তিকে নিয়ে অনেক লেখা পাবেন। কিন্তু আশ্চর্য হলেও লক্ষ্য করবেন সেইসব লেখাতে কোথাও লেখা নেই যে, এই ছবিটি ইত্তেফাকে কবে প্রকাশিত হয়েছে। দিন তারিখ কোনো লেখকই কি এক অদ্ভুত কারনে লেখেন নাই।

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের পরিস্থিতি একটা পর্যায়ে বেশ নাজুক ছিলো। পরপর কয়েকটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ, ঝড়-জলোচ্ছাস এবং সেই সাথে দীর্ঘ বন্যা। বঙ্গবন্ধু সরকারের জন্য সেই সময় ছিলো অসম্ভব রকমের চ্যালেঞ্জিং।

এমনিতেই সেই পাকিস্তান আমল বা তারও আমল থেকে উত্তর বঙ্গ এলাকায় বছরের দুইটি সুনির্দিষ্ট সময়ে মঙ্গা হতো। এরপর এই ১৯৭৪ এর বন্যা, ঝড়, সাইক্লোন ইত্যাদি। অনেকটা মড়ার উপর খড়ার ঘা। সেই সময়ের সারা বছরের পত্রিকা পড়লেই দেশের পুরো পরিস্থিতি বুঝতে পারা যায়।

‘সেই ছবি তোলার প্রত্যক্ষদর্শী হলেন, রাজো বালা।তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেন। প্রকৃত দৃশ্য বর্ণনা করতে চান না। এখনো ভয় পান। তার মতে,

এসব বললে ক্ষতি হতে পারে। যা হবার তা তো হয়েই গেছে বলে আর লাভ কি। পরে অনেক আলাপ-আলোচনার পর রাজো বালা বর্ণনা করেন সেই দৃশ্য। ছলছল চোখে আনমনা হয়ে কথা বলেন তিনি। তার বর্ণনা থেকে জানা যায়, ৭৪-এ যখন বাসন্তী-দুর্গাতিদের ছবি তোলা হয়, তখন ছিল বর্ষাকাল। চারদিকে পানি আর পানি।

এমন প্রেক্ষাপটে তিনজন লোক আসেন বাসন্তীদের বাড়িতে। এদের মধ্যে একজন ছিল তৎকালীন স্থানীয় রিলিফ চেয়ারম্যান তার নাম আনছার। অপর দুজনকে রাজো বালা চিনতে পারেনি।

বাসন্তী-দুর্গতিদেরকে একটি কলা গাছের ভেলায় করে বাড়ি থেকে বের করা হয়। আর অন্য একটি ভেলায় রেখে তাদের ছবি নেয়া হয়। এ সময় পাশের একটি পাট ক্ষেতে ছিলেন রাজো বালা। ছবি তোলার আগে আগন্তুকরা বাসন্তীদের মুখে কাঁচা পাটের ডগা দিয়ে বলে এগুলো খেতে থাকো। এর বেশি আর কিছু জানাতে পারেননি রাজো বালা।

বাসন্তীর কাকা বুদুরাম দাসের কাছে সেই ছবি তোলার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কাঁচুমাচু করেন। এক পর্যায়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে বর্ণনা করেন সেই ছবি তোলার নেপথ্য কাহিনী। শেষ পর্যায়ে তিনি ঐ ঘটনাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং প্রতিকার চান।’

“সঠিক ভাবে দিন-তারিখ মনে নেই। একদিন বাসন্তী ও তাঁর কাকাতো বোন দুর্গাতিসহ পরিবারের আরও কয়েকজন মিলে ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁধের ওপর বসেছিলেন। তখন দুপুর গড়িয়েছে।

এমন সময় ইউপি চেয়ারম্যান আনসার আলি বেপারি(এক সময়ের মুসলিম লীগ ও পরে আওয়ামীলীগের মাঠ পর্যায়ের নেতা) কয়েকজন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ একজন সাংবাদিককে (আফতাব আহমেদ, আলোকচিত্রি, দৈনিক ইত্তেফাক) নিয়ে আসেন মাঝি পাড়ায়।

তারা বাসন্তী ও দুর্গাতির ছবি তুলতে চান। এ সময় তারা বাঁধের ওপর মাঝিদের রোদে শুকোতে দেয়া জাল তুলে এনে তা বাসন্তীর ছেঁড়া শাড়ির ওপর পরিয়ে ছবি (১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় এই ছবি দু’টি ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়। সুত্রঃ ‘চিলমারীর এক যুগ’ – মোনাজাত উদ্দিন) তোলেন।

বুদুরাম এভাবে ছবি তুলতে আপত্তি জানিয়ে নিষেধ করেছিলেন। তবুও তারা শোনেননি। এ প্রসঙ্গে বুদুরাম দাশ তার ভাষায় জানায়,

‘চেয়ারম্যান সাব ছেঁড়া হউক আর ফারা হউক একনাতো শাড়ি আছে উয়ার উপরত ফির জাল খান ক্যা পরান, ইয়ার মানে কি? (চেয়ারম্যান সাহেব। ছেঁড়া হোক একটা শাড়ি তো আছে, তার ওপর জাল কেন পরান; এর কারণ কি? তখন সাইবদের মইদ্যে একজন কয় ইয়ার পরোত আরো কত কিছু হইবে….’’ তখন একজন সাহেব জানায় এরপর আরো অনেক কিছু হবে…..)।

সে সময়ে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পর একটা ক্রান্তিকাল পার করছিলো। বন্যা-ঝড়-জলোচ্ছাস সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু সরকার প্রাণপণে এমন অবস্থা থেকে বের হবার সমস্ত চেষ্টাই করছিলেন। কিন্তু এই সুনির্দিষ্ট ছবিটি সেই সময়ে ব্যাপক আলোড়িত হয় এবং বঙ্গবন্ধু সরকারকে এক মিথ্যে ও বানোয়াট ছবির প্রোপাগান্ডায় আহত হতে হয়।

এই ছবিটিতে থাকা বাসন্তি ছিলেন একজন বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধি। এই নারীটিকে দিয়েই এই অমানুষ আফতাব আহমেদ ও তার সঙ্গে থাকা শফিকুল কবির।

সেই সময় বাংলাদেশ একটা ক্রান্তিকাল পার করছিলো। এমন একটা সময়ে শুধু বঙ্গবন্ধু সরকারকে বিদ্ধ করবার জন্যই ইত্তেফাকের এই চক্রান্ত শুধু অমানবিকই নয় বরং এটি ছিলো পুরো মাত্রায় জোচ্চুরি এবং অসভ্যতা। সাংবাদিকতার যে নৈতিক আদর্শ রয়েছে সেটার পূর্ন পরিপন্থি ছিলো এই ছবি তুলবার ইতিহাস।

বলা বাহুল্য এই আফতাব আহমেদ-ই তার বাসার কাজের ছেলের মাধ্যমে ছুরিকাহত হয়ে নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হন ২০১৩ সালে। (প্রকৃতির বিচার)

এই বিষয়ে আমাদের প্রয় রিটন ভাইয়ের একটা দীর্ঘ লেখা রয়েছে। এই লেখাটা অসম্ভব রকমের গুরুত্বপূর্ণ। সেই লেখার একটা পর্যায়ে রিটন ভাই লেখেন-

১৯৯১ সালে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার গ্রীণরোড কার্যালয়ে এক দুপুরে এসেছিলেন তিনি। আমি তখন পত্রিকাটার ফিচার এডিটর। সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আমার টেবিলে এসেছিলেন তিনি অনেক আগ্রহ নিয়ে। আমি তাঁকে চা অফার করেছিলাম ঠিকই কিন্তু তাঁর প্রতি আমার ক্ষোভের কথাটাও জানিয়েছিলাম অকপটে।

বলেছিলাম—জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যার প্রেক্ষাপট বা পটভূমি নির্মাণে আপনিও তো একজন কুশীলব ছিলেন! চায়ে চুমুক দিতে দিতে বেশ অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে তিনি আমাকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে ছবিটা সাজানো ছিলো সত্যি কিন্তু ওটার পেছনে এতোবড় একটা ষড়যন্ত্র আছে তা তিনি জানতেন না।

তাঁর জবাবটিকে নাকচ করে দিয়ে আমি বলেছিলাম—পলিটিক্যালি মোটিভেটেড বলেই ইত্তেফাক আপনাদের দুজনকে কুখ্যাত সেই এসাইনমেন্টের জন্যে নির্বাচন করেছিলো। যে কোনো কারণেই হোক—আপনারা শেখ মুজিব এবং আওয়ামী লীগের প্রবল বিরোধী ছিলেন। তাছাড়া আপনি রংপুরের সন্তান। রংপুরের আঞ্চলিক ভাষা এবং পথঘাট আপনার চেনাজানা।

[https://www.facebook.com/riton100/posts/10151861817744327:0]

এই হচ্ছে ঘটনার এক সার সংক্ষেপ।

এই যে এখন দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কথা বলে মাংশ খাওয়ার স্বাধীনতা চাই বলে প্রথম আলো গংরা দূর উঠাচ্ছে এসব দেখে আমি বিচলিত হইনা। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ গতি নিয়ে আমার দ্বিমত নাই। আছে। কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে কিন্তু মানুষ খেতে পাচ্ছেনা, অভুক্ত থাকছে, এই গল্প ভুয়া।

বাংলাদেশের ইতিহাস ঘাটলে আমি এমন অসংখ্য মিথ্যে প্রোপাগান্ডা আর বেঈমানির ইতিহাস খুঁজে পাবেন যেখানে এই বাংলাদেশ নিয়ে আপনি নিজেই দ্বিতীয় ভাবনা ভাবতে শুরু করবেন।

একটা ঘটনা ঘটলে সেই পুরো ঘটনা নানাদিক থেকে বিশ্লেষন কেউই করতে চায়না। একটা সুনির্দিষ্ট লাইনে এবং একই ধারার ভাবনা সবাইকে পেয়ে বসে। ফলে একটা ঘটনা যে নানা রকমের পয়েন্ট থেকে দেখা যায় সেই ভাবনার প্যাটার্ন অনেকটা উপেক্ষিতই থেকে যায়। যেসব ভাবনাকে আমরা বলি ‘আউট অফ দা বক্স’ ভাবনা।

সেই সময়ের একটা মাছ ধরা জাল যিনি পড়তে পারেন অর্থ্যাৎ মাছ ধরার জালের মত মূল্যবান বস্তু যিনি পড়ে থাকতে পারেন তার পরনে শাড়ি থাকতে পারেনা এটা নিয়ে একজন বাংলাদেশী সেদিন প্রশ্ন তোলেনি।

মাছ ধরার জাল তো অনেক জরুরী একটি বিষয় হবার কথা সেই মঙ্গার সময়। একজন নারী এমন উপার্জনের অস্ত্র পড়ে বস্ত্র আকারে কেন পড়ে থাকবে কিংবা এটি আদৌ সম্ভব কিনা, এই প্রশ্ন কারো মাথায় আসলো না? অদ্ভুত!!

কেউ এই ছবিকে চ্যালেঞ্জ করেনি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর, দশকের পর দশক লেগেছে এই ছবির সত্যতা বের করতে। ফলে এই বাংলাদেশের টিসিবি’র ট্রাক বলুন কিংবা হাজারো সমস্যা বলুন, আমার কিছুই বিশ্বাস হয়না।

এই বাংলাদেশে ১৫-ই অগাস্ট হয়েছে, এই বাংলাদেশে ৩-নভেম্বর হয়েছে, এই বাংলাদেশে ২১ শে অগাস্ট হয়েছে।

এই বাংলাদেশকে বিশ্বাস করা অসম্ভব।©

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD