বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় এ বছর প্রথমবারের মতো বায়োমেট্রিক যাচাই এবং ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি, প্রশ্নফাঁস ও অন্যান্য ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি প্রতিরোধ করা।
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল প্রতারণা বেড়েছে। কিছু অসাধু চক্র উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার চেষ্টা করে। এবার আমরা পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক যাচাই ও মুখের পরিচয় স্ক্যান চালু করছি।”
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জানিয়েছে, পরীক্ষার দিনে প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে প্রবেশের আগে আঙুলের ছাপ ও মুখের ছবি স্ক্যানের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতরে থাকবে উচ্চমানের সিসি ক্যামেরা, যাতে কোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ তৎক্ষণাৎ শনাক্ত করা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সদস্য অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, “এটি ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় ইতিবাচক পরিবর্তন। প্রক্সি পরীক্ষার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে এবং সবার মধ্যে আস্থা বাড়বে।”
অভিভাবকরাও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে কেউ কেউ জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে পরীক্ষার দিনে জটিলতা তৈরি হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সব পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকবে যাতে কোনো পরীক্ষার্থী সমস্যায় না পড়ে।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, বায়োমেট্রিক যাচাই ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে যাচ্ছে সরকার, যা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা করবে।
Leave a Reply