মাত্র ১৩ বছর বয়স,বাবাহীন সংসারে আলোর প্রদিপ ওই ছোট্ট ইয়াসিন।মা আর তিনবোনকে নিয়ে টিকে থাকতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা।যে-বয়সে হেসে-খেলে জীবন পার করার কথা,ঠিক তখনই বেছে নিয়েছেন রিকশা চালানো।মাত্র ৬ মাস আগে ছোট ভাই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ভিটেমাটিসহ বিক্রিযোগ্য যা ছিল সব বেঁচে দিয়েছেন।কিন্তু ভাইকে বাঁচাতে পারেননি।তবু তো বেঁচে থাকতে হবে। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া ইয়াসিন তাই বেছে নিয়েছিলেন রিকশা চালানো।
ভাইয়ের চিকিৎসায় মানুষের কাছে থেকে নেওয়া ঋণ শোধ,চারজনের সংসারের ব্যয়ভার সবকিছু তুলে নিয়েছিলেন নিজের মাথায়।
কিন্তু অমানুষের পৃথিবীতে ইয়াসিনের এই যুদ্ধ যে বড় বেমানান।অটোরিকশার প্যাডেলে পা রাখার দেড়মাসের মাথায় গতকাল চুরি হয়ে গেছে রিকশাটি।যাত্রীবেশে অচেনা দুই ব্যক্তি ছোট্ট ইয়াসিনকে পথের ফকির বানিয়ে দিয়ে গেছে।ইয়াসিনের কান্নায় শত শত মানুষের চোখে জল আসলেও কিন্তু পেট ভরছে না এখন ইয়াসিনের।চারপাশ যে এখন অন্ধকার।ঘুটঘুটে অন্ধকার।ঋণের বোঝা কিভাবে শোধ হবে,সংসার চলবে কিভাবে?জানেনা ছোট্ট ইয়াসিন।লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ মজুপুর এলাকার পলোয়ান মসজিদ এলাকা থেকে রিকশাটি চুরি হয়। ইয়াছিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরভূতা গ্রামে।
ইয়াছিন জানায়,রোববার বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরে আসার কথা বলে ভবানীগঞ্জের চৌরাস্তা বাজার থেকে তার অটোরিকশায় দুইজন যাত্রী ওঠে। বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে পৌরসভার পলোয়ান মসজিদের পাশে নেমে চা পান করে ওই যাত্রীরা। এ সময় তারা (যাত্রী) তাকে পাশের একটি ভবন দেখিয়ে একটি সাউন্ড বক্স আনার জন্য পাঠায়।এ সুযোগে রিকশাটি নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
ইয়াছিন জানান,দেড় মাস ধরে সে রিকশাটি ভাড়ায় চালাচ্ছে।দৈনিক ৩০০ টাকা জমা দিয়েও ২০০-৩০০ টাকা তার থাকতো।ওই টাকায় সংসার চলতো।রিকশার মালিককে এখন কী বোঝাবো?আর ঋণের টাকাইবা শোধ দিবে কিভাবে?
#সংগৃহীত
Leave a Reply