এস,কে হোসাইনঃ
সেই ১৯৬৮ ইং সালের কথা, দিনাজপুর সদর উপজেলার দিঘিপারা গ্রামের বায়তুল আকসার সাবেক ইমাম হাজী মহিউদ্দিন পায়ে হেটে বাংলাদেশ থেকে পবীত্র মক্কা ও মদীনা গিয়ে হজ্জ পালন করেন। এতে তাঁর সময় লেগেছে ১৮ মাস।
এই ১৮ মাসের সফরে তিনি পারি দিয়েছেন কয়েক হাজার কিলোমিটার পঁথ, সফর করেছেন ৩০টি দেশ। যে দেশগুলো সফর করেছেন তার নাম আজঅবদি ঠোটের আগায় মুখস্ত রয়েছে।
১৯০৬ সালে জন্ম নেয়া এই অদম্য মানুষটির বয়স এখন ১১৫ বসর, এই ধর্মভিরু মানুষটির পায়ে হঁটে হজ্জ পালনের ইচ্ছার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেনঃ ১৯৬৮ সালে দিনাজপুর থেকে পায়েহেটে হজ্জ পালমের উদ্দেশ্যে তিতি রওয়ানা দেন রংপুর হয়ে ঢাকা কাকরাইল মসজিদে যান।সেখানে তঁার পায়ে হেটে হজ্জ পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করলে, কাকরাইল মসজিদের ততকালিন ইমাম মাওলানা আলি আকবর আরো ১১ জন পায়েহেঁটে হজ্জ পালনে যেতে ইচ্ছুক এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে হাজি মহিউদ্দিনকে পরিচয় করিয়ে দেন। শুরু হয় ১২ জনের হজ্জ যাত্রা। অতপর মোট ১২ জনের একটি কাফেলা তখন মক্কার অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। তারা চট্রগ্রাম হয়ে ভারত যান, তারপর করাচি মক্কি মসজিদে অবস্হান করেন। সেখান থেকে সৌদি এম্বাসি গিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করেন, ৮ দিন পর সৌদি ভিসা হাতে পেলে ফের শুরু করেন পথযাত্রা। পাসপোর্ট এবং ভিসা করতে মোট জনপ্রতি খরচ হয় ১২০০ টাকা।
পাকিস্হানের নৌকোটি শিমানা পারি দিয়ে, ইরানের তেহরান, অতপর ইরাকের বাগদাদের কারবালা দিয়ে মিশর পাড়ি দিয়ে সৌদি আরব পৌছান তারা। পথে ফেরাউনের লাশ দেখার ইচ্ছাও পুরন হয় তাদের। সৌদি আরবে গিয়ে হজ্জ পালন শেষে মাতৃভুমির নিজ পরিবারে পুনরায় তিনি ফিরে আসেন। সে সময় তিনি ৩০ দেশ পারি দিয়েছেন বলে জানান।
এমন কষ্ট করে হজ্জ পালনের অনুভুতির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পায়ে হেটে পবীত্র হজ্জ পালনের অনুভুতি বলে ব্যকৃত করা যাবেনা, এর অনুভুতি, আনন্দ ভিন্ন রকম, কস্টহয়েছে কিনা জানতে চাইলে, কোনো কস্ট করেছি বলে অনুভব হয়নি বলেও তিনি যানান। তবে কষ্ট করেছেন আমার সহধর্মিনি আবেদা বেগম। অভাব অনটনপর মধ্যেও আমার এমন ইচ্ছাকে সায় দিয়ে তা পরিপুর্ন করতে সে আমাকে সাহস যুগিয়েছে। স্ত্রীকে নিয়ে বেশ ভালো আছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তার চার মেয়ে ও দুই ছেলে তাদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে।
হাজি মহুউদ্দিন বয়সের কারনে মসজিদের ইমামতি ছেড়ে দিয়েছেন। ছেলেমেয়েদের সহযোগিতায় চলেযায় তাঁর সংসার। কিন্তু অভাব অনটনের কারনে করতে পাছেন না কানের চিকিৎসা। আগের তুলনায় এখন কানে অনেকটাই কম সুনতে ওান তিনি। কখনো কখনো কিছু না শুনেই নিজের মনইচ্ছামতো আল্লাহ নবীর কথা বলতে থাকেন।
হাকি মহিউদ্দিন হজ্জ পালনের কালে ১৮০০ টাকা নিয়ে রওয়ানা করেছিলেন। পথে থাকা ও খায়াতে নিজেদের তেমন একটা খরচ করতে হয়নি। ১২ জনের হাজের কাফেলা দেখে লোকেরা তাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্হা করে দিনেন বিনা মুল্যেই। ফিরে আসার সময়ও একই ভাবে তারা ফিরে আসেন। কোহো টাজাই তাদের খরচ হয়নি ফিরে এসেছিলো পুরো টাকাই। কিন্তু আজ সেই মানুষটা বেশ কষ্টে আছেন অর্থের অভাবে কানের মেশিনটিও লাগাতে পারছেন না।
Leave a Reply