৩৮ বছর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের একটি শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন আরব আলী, তখন তাঁর বয়স ছিল ৫২ বছর। সে সময় জালিয়াতির মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। চাকরিও হারিয়েছিলেন তিনি। বছরের পর বছর পুরান ঢাকার বিচারিক আদালত থেকে হাইকোর্ট–সর্বোচ্চ আদালতের বারান্দায় ঘুরেছেন। চাকরি ফিরে পাওয়ার পক্ষে একবার আদালতের রায়ও এসেছিল। তবে উচ্চ আদালতে তা আটকে যায়। এরপর তিন যুগের বেশি সময়ে আরব আলীর অর্থ আত্মসাতের ওই মামলার বিচার এগোয়নি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ আরব আলী রাজধানীর নয়াপল্টনে পরিবারের সঙ্গে থাকেন। ৯২ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারেন না। কিন্তু মামলার আসামি হওয়ায় তাঁকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হয়। এই মামলার বাদী ছাড়াও পাঁচ আসামির তিনজনই মারা গেছেন। মৃত তিন আসামির মধ্যে আরব আলীর এক স্ত্রী জাহানারা বেগমও রয়েছেন। দুই বছর আগে মামলার বিচারে নতুন করে অভিযোগ গঠন হয়, সেখানে আসামি শুধু আরব আলী ও তাঁর জীবিত স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। তবে মনোয়ারা আরও বেশি অসুস্থ। আদালতের অনুমতি নিয়ে সশরীর হাজিরা থেকে রেহাই পেয়েছেন তিনি। তাঁর পক্ষে আইনজীবী নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেন। সর্বশেষ গত ২৯ মে এই মামলার শুনানির দিন ঠিক ছিল। তবে অসুস্থ থাকায় সেদিন আর আদালতে হাজির হতে পারেননি আরব আলী। তাঁর পক্ষে আদালতের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী। ওই দিন নয়াপল্টনে আরব আলীর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তিনি অসুস্থ। হাতে ক্যানুলা। ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না। আরব আলী সেদিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি খুব অসুস্থ। মামলার বিষয়ে আমার কিছু মনে নেই।’ আরব আলীর ছেলে সৈয়দ আলী আহসান বলেন, আব্বা এখন আর কিছু সেভাবে মনে করতে পারেন না। মা তো আরও বেশি অসুস্থ থাকেন।
Leave a Reply