আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বল্লেন, আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারত ও আমেরিকার এ ভূখণ্ডে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। তারা (ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র) তাদের অভিন্ন স্বার্থের বিষয় একে অন্যকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বা নির্বাচনের ব্যাপারে ভারত এ পর্যন্ত একবারও বলেনি, তারা এখানে অমুককে চায়। অমুককে চায় না। এ ধরনের কোনো মন্তব্য আমরা ভারত থেকেও পাইনি। আমরাও জানি, আমাদের ক্ষমতায় বসাবে বাংলাদেশের জনগণ।
শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ রবীন্দ্র সরোবরে আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় বসতে আমেরিকার দিকে তাকিয়ে আছে। কখন নিষেধাজ্ঞা আসবে, ভিসানীতি আসবে-এটা ভেবে তারা আটলান্টিকের ওপারে তাকিয়ে আছে। তাকাতে তাকাতে তাদের চোখের পাওয়ারও কমে গেছে।
এখন আর তাকিয়ে কিছু দেখতে পায় না। কেন নিষেধাজ্ঞা দেয় না, কেন এখনো ভিসানীতি আসে না- এসব চিন্তা করে মির্জা ফখরুলের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কাজেই ওদের এসব বিষয় নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। আমরা জনগণের দিকে তাকিয়ে আছি। শেখ হাসিনার একই কথা- ‘জনগণ চাইলে আমরা ক্ষমতায় থাকব, জনগণ না চাইলে আমরা চলে যাব।’
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারত আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। ‘৭৫-এ আমরা ক্ষমতা হারিয়েছি, তখন তো ভারত আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়নি। ভারত বা কোনো বিদেশি শক্তি কাউকে ক্ষমতায় বসাবে, ক্ষমতাচ্যুত করবে; আমি মনে করি-যারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে, তাদের এমন মন্তব্য করা অশোভন।
তিনি বলেন, যারা ভারতের হস্তক্ষেপের কথা বলেন-তাহলে একাত্তর সালে কী হয়েছিল? ভারত আমাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল। তাদের সৈন্যরা রক্ত দিয়েছেন। আমাদের লোকজনকে, শরণার্থীদের ভারত আশ্রয় দিয়েছে, অস্ত্র দিয়েছে, ট্রেনিং দিয়েছে। সেটা কি অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ নয়? ভারতীয় ভূখণ্ডে গিয়ে জিয়াউর রহমান সাহেব মুক্তিযোদ্ধা হয়েছিলেন-সেটা কার হস্তক্ষেপ?
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু কর্মসূচি পালন করে না। দেশের জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হয়। আমাদের বাঁচতে হলে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। শুধু রাজনীতি করলে হবে না। মানুষকে বাঁচানোর রাজনীতি সবার আগে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ডেঙ্গু থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে। ডেঙ্গুর মতো ভয়ংকর বিএনপি থেকে সাবধান।
আজকে দেশের প্রধান দুই শত্রু, এক শত্রু বিএনপি, আরেক শত্রু ডেঙ্গু। আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে এই শত্রুর প্রতিরোধ করি। মানুষের জীবন ডেঙ্গুর হাতে নিরাপদ নয়। বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদ বিএনপির হাতে নিরাপদ নয়। ডেঙ্গুর চেয়ে ভয়ংকর বিএনপিকে আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে। অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের ডেঙ্গুবিরোধী এ কর্মসূচিকে দেশব্যাপী জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসন, কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপির সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন প্রমুখ বক্তৃতা করেন। পরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে : এদিকে শনিবার বিকালে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে মিলন হলে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়া মরার আগেই তাকে কয়েকবার মেরে ফেলেছে মির্জা ফখরুলরা। তার জন্য প্রয়োজনীয় যতটুকু মানবিকতা দেখানোর শেখ হাসিনা তা দেখিয়ে যাচ্ছেন। তার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপির যতটা উদ্বেগ, তার চেয়ে বেশি নোংরা রাজনীতি করছে। আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায় না জানিয়ে তিনি বলেন, গায়ের জোরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নেই বা আসতে চায় না। উন্নয়ন দেখে জনগণ ভোট দেবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি জামাল উদ্দিন চৌধুরী, মহাসচিব কামরুল হাসান মিলন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
(সংগৃহিত)
Leave a Reply