কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মকিমপুর গ্রামের একটি জলাশয়ে আবারও ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাটি উত্তোলন করা হলেও কার্যকরভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না ড্রেজার মেশিনের উপক্রম। এতে আশপাশের সাধারণ মানুষের কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্হ হচ্ছে, এতে নানহ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জলাশয় থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি উত্তোলনের ফলে আশপাশের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি চলাচলের পথ, কৃষিজমি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অতিরিক্ত মাটি উত্তোলনের কারণে জলাশয়ের স্বাভাবিক গঠন ও পার্শ্ববর্তী জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।
স্থানীয়রা আরও জানান, এর আগেও সংশ্লিষ্ট এলাকার দক্ষিন জলাসয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ড্রেজার মেশিনের কার্যক্রম স্হগিত করা হয়। তদুপরি ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কিছুদিন পর আবারও একই কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ৫(১) অনুযায়ী, পাম্প, ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না।
এ ছাড়া ধারা ৭ক অনুযায়ী ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে, পরিবেশ-প্রতিবেশ বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে কিংবা ড্রেজারের মাধ্যমে এমনভাবে মাটি উত্তোলন করা যাবে না, যাতে ওই জমি বা পার্শ্ববর্তী জমির ক্ষতি, চ্যুতি বা ধসের সৃষ্টি হয়।
আইনের ধারা ১৫(১) অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘন করে বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বালু বা মাটি উত্তোলন করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত ড্রেজার, বালু বা মাটিবাহী যানবাহনসহ সংশ্লিষ্ট সামগ্রী বাজেয়াপ্তের বিধানও রয়েছে।
মকিমপুর গ্রামের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন বন্ধ, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং জলাশয় ও আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
Leave a Reply