উপশিরোনাম: মার্চ থেকে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত দুই লাখের বেশি সন্দেহভাজন আক্রান্তের তথ্য; পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২০ অক্টোবর ২০২৬:
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতা এবং জরুরি টিকাদান কার্যক্রমের আওতার বাইরে থেকে যাওয়া শিশুদের কারণে পরিস্থিতি মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে দুই লাখের বেশি সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২২ হাজার রোগীর সংক্রমণ পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হামে ১ হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে। মৃতদের ৯৪ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদানের আওতা কমে যাওয়াকে বর্তমান প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দরিদ্র এলাকায় বসবাসকারী শিশুদের কাছে সময়মতো টিকা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সিলেটসহ কয়েকটি অঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবা পৌঁছাতে দেরি হওয়া এবং শিশুদের টিকাদানের তথ্যের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরুরি টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে এরপরও অনেক শিশু কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছে। বাদ পড়া শিশুদের কাছে পৌঁছাতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগের বিস্তার কমাতে নিয়মিত টিকাদান, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা জরুরি।
শিশুর হামের টিকা নেওয়া হয়েছে কি না, তা টিকাকার্ড দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কোনো ডোজ বাদ পড়ে থাকলে স্থানীয় টিকাদান কেন্দ্র বা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী করণীয় জেনে নিতে হবে।
শিশুর জ্বরের সঙ্গে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় সন্দেহভাজন শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা রাখা এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সম্ভব হলে স্বাস্থ্যকর্মীকে জানানো জরুরি।
শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
(তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ১৭ অক্টোবর ২০২৬; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন।)
Leave a Reply