সব জরিপ ভুল প্রমাণ করে, প্রথম দফায় পিছিয়ে থেকেও চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন ৮০ বছর বয়সী লুলা। আর হারালেন ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত ফ্লাভিও বলসোনারোকে।
রোববার, ২৫ অক্টোবর। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বামপন্থী নেতা হিসেবে আবারও ক্ষমতা ধরে রাখলেন।
ফলাফলটা কীভাবে এল?
আল জাজিরার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯৯ শতাংশ ব্যালট গণনা শেষে লুলা পেয়েছেন ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট। প্রথম দফায় অবস্থাটা ছিল উল্টো। তখন লুলা পেয়েছিলেন প্রায় ৪৫ শতাংশ, আর ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৭ শতাংশ। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় ব্যবধান ঘুচিয়ে ঘুরে দাঁড়ান লুলা।
ফ্লাভিও একজন সিনেটর, আর সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বড় ছেলে। বাবা জইর সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টাসহ নানা অভিযোগে আইনি জটিলতায় থাকায় এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তাই ছেলেকে সামনে আনা হয়েছিল।
লুলার গল্পটাই একটা চলচ্চিত্র
২০০৩ থেকে ২০১১ পর্যন্ত টানা প্রেসিডেন্ট ছিলেন লুলা। এরপর দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কারাভোগ করেন। পরে সেই সাজা বাতিল হয়ে যায়, আর ২০২২ সালে জইর বলসোনারোকে হারিয়ে ক্ষমতায় ফেরেন। এবার চতুর্থ মেয়াদ। এই লড়াইটা সহজ ছিল না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির মতো বিষয় ছিল তাঁর বিপক্ষে।
এর ভূরাজনৈতিক অর্থ কী?
টিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুলার এই জয়ে লাতিন আমেরিকাজুড়ে ডানপন্থিদের নির্বাচনি জয়ের যে জোয়ার চলছিল, তা বড় ধাক্কা খেল। অনেক গণমাধ্যম তাঁকে ট্রাম্পের কড়া সমালোচক ও ফিলিস্তিনপন্থি নেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
আমরা আগে লিখেছিলাম, ব্রাজিল ইসরায়েলে সরাসরি তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে এনেছে। চীনের এআই জোট বিশ্ব এআই সহযোগিতা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের তালিকায়ও ছিল ব্রাজিল। এই অবস্থান লুলার নতুন মেয়াদে কতটা অব্যাহত থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
একটা বিষয় পরিষ্কার: বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের মধ্যেও একজন ক্ষমতাসীন নেতা জিততে পারেন, যদি পুরোনো শত্রুই তাঁর সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে যায়।
Leave a Reply