(একটি সংবাদ আমরা সংগৃহিত করেছি এর সত্যতা কতটুকু তা আমরা জানিনা। তবে ঘটনার বিবরন এবং সৌদির বিচার ব্যাবস্থার র্পযালোচনার পরিপেক্ষিতে ঘটনাটি অনেকটা সত্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।)
বাংলাদেশি দুজন “নজরুল ইসলাম ও সিথি আক্তার”। তাঁরা দুজনই বিন লাদেন কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং মক্কাতুল মোকাররমার মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মেয়েটির ভিলা ছিল বাতহা কুরাইশে, আর ছেলেটির ভিলা ছিল হাইয়্যাল ইসকানে।
ডিউটি করতে এসে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মসজিদুল হারামের ৮৫ থেকে ৮৭ নম্বর গেটের মাঝখানের সিঁড়ির ওপর নির্জন একটি কক্ষে তাঁরা ব্যভিচারে লিপ্ত হন। নজরুল ইসলাম তাঁর এক ভারতীয় বন্ধুকে পাহারায় নিচে দাঁড় করিয়ে রাখেন। সেই বন্ধু ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। পরে সেও মেয়েটির সঙ্গে একই ধরনের সম্পর্কে জড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু তাতে সম্মতি না পাওয়ার পর ভিডিওটি প্রকাশ করে দেয় বলে জানা যায়। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হয় এবং সৌদি প্রশাসন তিন জনকেই আটক করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতীয় ওই যুবকের ২০ বছরের কারা’দণ্ড হয়েছে এবং সে এখনো কারাগারে রয়েছে। অন্যদিকে, নজরুল ইসলাম ও সিথি আক্তার’কেও কারাগারে রাখা হয়।
নজরুল ইসলাম ২০২২ সালের ১০ থেকে ১৩ নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান। ২০২৩ সালের মে মাসে ঘটনা’টি ঘটে এবং তাঁরা সৌদি প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েন। এরপর ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁরা কারাগারে ছিলেন। দীর্ঘ সাড়ে তিন থেকে চার বছর ধরে বিচার প্রক্রিয়া চলে।
এখানে একটি বিষয় বোঝা জরুরি, সৌদি সরকারের দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট কফিল ও কোম্পানি’কে বিষয়টি জানানো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষকে জানানো তাদের দায়িত্ব নয়। অনেকে এখন দাবি করছেন, তাঁরা ওমরাহ করতে গিয়ে চু”মু খেয়েছিলেন, আর সে কারণেই তাঁদের মৃ*ত্যু”দণ্ড হয়েছে। এসব দাবি সম্পূর্ণ মি”থ্যা ও বানোয়াট। তাঁরা অবিবাহিত ছিলেন, সেটি আলাদা বিষয়। কিন্তু অবিবাহিত হওয়ার কারণে কারও মৃ*ত্যু’দণ্ড হবে, এমন প্রশ্ন তোলার আগে মামলার প্রকৃত অভিযোগ ও বিচার প্রক্রিয়া বোঝা প্রয়োজন।
বিষয়’টি সাধারণ কোনো স্থান’কে ঘিরে নয়, মসজিদুল হারামের মতো পবিত্র স্থানকে ঘিরে। এই বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে সংঘটিত অপরাধকে শুধু ব্যভিচার হিসেবে দেখা হয়নি; বরং মসজিদুল হারামের পবিত্রতা ও সম্মান ক্ষুণ্ন করার বিষয়’টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দৃষ্টান্ত’মূলক শাস্তি হিসেবে সৌদি বিচারব্যবস্থার উচ্চপর্যায়ের বিচারকেরা তাজিরের আওতায় মৃ*ত্যু”দণ্ডকে উপযুক্ত মনে করেছেন এবং সেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট রায় ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বক্তব্য দেওয়া উচিত।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত কিছুর পরও আমরা নির্লজ্জের মতো যাচাইহীন ও মিথ্যা কথা ছড়িয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশে যারা ইসলামী আইন কায়েমের কথা বলেন, তাঁদের কেউ কেউ আবার এই বিচার ও শাস্তির বিরোধিতা করছেন। আল্লাহ সবাইকে হেদায়েত দান করুন। আর যারা সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাঁদেরও সঠিক পথে ফিরে আসার তৌফিক দিন।
(সংগৃহিত)
Leave a Reply